কালো পতাকা বিড়্গোভ শেষে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহ
এনার্জি রিপোর্টার
সমুদ্রের গ্যাস-তেল বস্নক ইজারা প্রক্রিয়ায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের লেনদেন হয়েছে অভিযোগ করেছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রড়্গা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহ। এনিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। একই সাথে সমুদ্রের গ্যাস-তেল বস্নক ইজারা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি দেশের জনগণকে তার ওপর আস্থা রাখার জন্যে যে আহবান জানিয়েছেন,তাকেও ভাওতবাজি বলে মন্তôব্য করেছেন শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহ। তিনি বলেন,আমেরিকার যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর সাগরের তেল-গ্যাস সম্পদ ইজারা দানের প্রশ্নে তার অবস্থান স্পষ্ট ভাবে নির্দেশ করেছেন। জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে সমুদ্রের গ্যাস-তেল বস্নক ইজারা সংক্রান্তô কাগজ তৈরী করে রাখার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। একারণে জনগণ প্রধানমন্ত্রীর কথায় দেশবাসী ভরসা রাখতে পারছে না। তাই সরকারের এধরণের দেশবিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থেকে আগামী ১৬ অক্টোবর জনগণকে জাতীয় কনভেনশন সফল করে তোলার আহবান জানান।
তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রড়্গা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্তô কাওরানবাজারস্থ পেট্রোবাংলা কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন ও বিড়্গোভ কর্মসূচি শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবং একই সাথে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্্র মিডিয়ার সালে সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন। শতকরা রপ্তানির সুযোগ দিয়ে সমুদ্রের গ্যাস-তেল বস্নক ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী মডেল পিএসসি ২০০৮ বাতিল; তেল-গ্যাসের শতভাগ মালিকানা দেশের রেখে, রপ্তানি নিষিদ্ধ করে, সমুদ্র থেকে স্থল পর্যন্তô পরিবহন অন্তôর্ভুক্ত করে নতুন মডেল পিএসসি প্রণয়ন, নতুন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক দরপত্র আহ্বান ও সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরম্ন, ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণ বাস্তôবায়ন এবং ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় কমিটির মিছিলে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে এই কালো পতাকা বিড়্গোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮ টা থেকেই পুলিশ পেট্রোবাংলা কার্যালয় ঘিরে রাখে। একই সাথে হোটেল সোনারগাওয়ের সামনের পথটিকেও তিনটি ব্যারিক্যাড দিয়ে ঘিরে রেখে এপথ দিয়ে সবধরণের যানবাহনের পাশাপাশি জনগণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বেলা ১১টায় প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহসহ জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল সোনাগাঁও হোটেল এবং একুশে টিভি মোড় থেকে পেট্রোবাংলা কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করলে ১০০ গজ দূরে পুলিশ কাটাতারের বেড়া দিয়ে মিছিলে বাঁধা দেয়। এবং পেট্রোবাংলায় ঢুকার চারিদিকে কাটাতারের বেড়া দিয়ে বেস্টনি তৈরি করে।
পুলিশী বাধায় মিছিলকারীরা বিড়্গোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করতে থাকে এবং জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহর সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির নেতা অধ্যাপক আকমল হোসেন, সিপিবি নেতা মোরশেদ আলী, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা নূরম্নল হাসান, গণতান্ত্রিক বিপস্নবী পার্টির মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, জাতীয় গণফ্রন্টের নজরম্নল ইসলাম, মজদুর পার্টির সামছুজ্জোহা, ওয়ার্কার্স পার্টি (পুনগঠিত) নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিপস্নবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা মোশতাক আহম্মেদ, গণতন্ত্রী পার্টির মাহমুদুর রহমান বাবু, ন্যাপের আব্দুর রশীদ সরকার, সাম্যবাদী দলের হারম্নন চৌধুরী, মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন গণসংস্কৃতি ফ্রন্টের কামরম্নদ্দিন আফসার, সঙ্গীত এর অমল আকাশ ও অরূপ রাহী।
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদের শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, রাজেকুজ্জামান রতন, তাহেরা বেগম জলি, সিপিবির আহসান হাবিব লাভলু, মাহবুবুল আলম, আসলাম খান, জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির মোজাম্মেল হক তারা, কামরম্নল আহসান, রাগিব আহসান মুন্না, আবুল হোসেন, গণফ্রন্টের আবু তাহের, অপু, শবনম হাফিজ, গণসংহতির জুলহাস নাইন বাবু, বিপস্নবী পার্টির বাবুল বিশ্বাস, ভাসানী পরিষদের এনামুল লতিফ, হায়দার আনোয়ার খান ঝুনো, মেহেদী হাসান, প্রকৌশলী এনামুল হক, হামিদুল হক, কামরম্নল আলম সবুজ প্রমুখ।
সমাবেশে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহ ঘোষণা পাঠ করেন এবং আগামী ১৬ অক্টোবর জাতীয় কনভেনশন ও ৩-১৩ অক্টোবর বিভাগীয় সম্মেলন সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে ১৬ তারিখের আগে চুক্তি স্বাড়্গর করা হলে হরতাল-অবরোধসহ আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সরকাকে হুশিয়ার করে দেন।
তিনি সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন আমরা প্রস্তুত আছি সরকারের সাথে টিভি চ্যানেল অথবা পল্টন ময়দানে খোলা বিতর্ক করতে এবং জনগণকে পরিষ্কার করতে। কে বিভ্রান্তিô ছড়াচ্ছে জাতীয় কমিটি না সরকার।
শেখ মুহাম্মদ শহীদুলস্নাহ বলেন,জনগণের স্বার্থ রড়্গায় আন্দোলনকারীদের প্রতি অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্য ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠনকারী বহুজাতিক কোম্পানি কর্তৃক সম্পদ পাচারের পড়্গে শক্ত ও নির্লজ্জ অবস্থান নিয়েছেন। জনগণের বিরাট অংশের আস্থা ও ভালোবাসার আসনে আসীন হয়ে তিনি তাদেরই স্বার্থে নির্মম কুঠারাঘাত করেছেন ও করে যাবেন বলে আশংকা হয়। তিনি বলেন,যে মডেল উৎপাদন বন্টন চুক্তি ২০০৮ এর ভিত্তিতে সরকার ২টি চুক্তি করতে যাচ্ছেন তাতে সব তেল-গ্যাস সম্পদ পাচার হয়ে যাবে।
তিনি বলেন,জনগণকে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর তার অধিকার সচেতন করলে ও সরকার যে সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস হয়ে জনগণের স্বার্থের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে তার সম্পদ পাচার করতে যাচ্ছে জনগণ ফুঁসে উঠবে ও তার সম্পদ রড়্গায় প্রাণপণ আন্দোলন করবে।