২০১২ সালের মধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ ২৫০ মেগাওয়াট
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ২০১২ সালের মধ্যে ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে। এ জন্য অবকাঠামো খাতে খরচ হবে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের সচিব পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগে খুলনায় প্রতিটি ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করার ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে এ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ হবে। এ জন্য প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠকে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎসচিব আবুল কালাম আজাদ এবং ১৭ সদস্যের ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন সে দেশের বিদ্যুৎসচিব এইচ এস ব্রহ্মা।
গতকাল বেলা ৩টায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎসচিব আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।
সেখানে উপস্থিত এইচ এস ব্রহ্মা বলেন, ভারতের পাওয়ার গ্রিড কম্পানি বিভিন্ন স্টক থেকে মোট ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। দাম নির্ধারণ করবে ভারতের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ভারত সরকারের কেনা দামে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিক্রি করা হবে এবং তা ভারতীয় মুদ্রায় ইউনিটপ্রতি প্রায় দুই রুপি হবে বলে জানান এইচ এস ব্রহ্মা। তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, সঞ্চালন ব্যয়সহ বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি আড়াই রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে তিন টাকা হতে পারে।
বিদ্যুৎসচিব জানান, বিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশে ৪৫ কিলোমিটার এবং ভারতে ৮৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ভেড়ামারায় একটি হাই ভোল্টেজ সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। এসব কাজে বাংলাদেশের ব্যয় হবে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। অবকাঠামোগত ব্যয় ৩৫ বছরে তোলা হবে। এ ক্ষেত্রে যে দেশ বিদ্যুৎ আমদানিতে সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করবে, তাদের এই খরচ বহন করতে হবে। তিনি আরো জানান, এ ব্যয় বিদ্যুতের মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎসচিব জানান, বাংলাদেশ অংশের সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি দরপত্র ডাকা হবে। কার্যাদেশ দেওয়া হবে চলতি বছরের জুলাই মাসে।
আলোচনা ফলপ্রসূ উল্লেখ করে ভারতের বিদ্যুৎসচিব এইচ এস ব্রহ্মা বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি করছে। আগামী চার বছরে এ দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা হবে ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াট। ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নে কম দামে বিদ্যুৎ দিতে চায়।
সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগে খুলনায় কয়লাভিত্তিক ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট স্থাপনের ব্যাপারেও প্রাথমিক আলোচনা শেষ হয়েছে। সমঝোতা স্মারক বিষয়ে বিদ্যুৎসচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ব্যাপারে দুই দেশের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন এর আইনি দিক ও কাঠামোগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে চুক্তি সম্পন্ন করার অপেক্ষা। দুই দেশের মধ্যে শিগগির এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান। এই দুটি ইউনিট চালু হলে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কম্পানির (এনটিপিসি) যৌথ বিনিয়োগে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি স্থাপন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৪ সালের মধ্যে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শেষ হবে।