জ্বালানি খাত নাজুক : মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা

পোশাক শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা

জ্বালানি খাত নাজুক : মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা

: জ্বালানি খাত নাজুক : মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা

সৈয়দ মিজানুর রহমান

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি (বিদ্যুত্ ও গ্যাস) পর্যবেক্ষণ করছে রফতানি আয়ের বড় খাত তৈরি পোশাকের বড় বড় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী বছর পোশাক কেনার অর্ডার (রফতানি আদেশ) প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। বিশেষ করে ওয়ালমার্টের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্টদের কাছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। আর সেদেশে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ওয়ালমার্ট। যুক্তরাষ্ট্রে মোট রফতানি পোশাকের ৩০ শতাংশই ওয়ালমার্ট কেনে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৫টি দেশে ৫৩টি নামে তাদের ৮ হাজার ৪২৪টি শাখা রয়েছে। ওয়ালমার্টের কর্মিসংখ্যা ২১ লাখ। ২০০৯ সালে কোম্পানিটির বিক্রি ছিল ৪০ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিজিএমইএ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টসহ তৈরি পোশাকের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী বছর (২০১১) বিক্রির জন্য যেসব তৈরি পোশাক কিনবে তার অর্ডার শুরু হবে আগামী জুন-জুলাইয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে সময়মত তারা অর্ডারি পোশাকের সরবরাহ পাবে কিনা তার নিশ্চয়তা চেয়েছে বিজিএমইএ’র কাছে। সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘বিদ্যুত্ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে এখন শুধু আমরা নিজেরাই উদ্বিগ্ন নই, বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ালমার্ট, এইচ অ্যান্ড এম কোচের মতো বড় বড় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও উদ্বিগ্ন। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠান অর্ডার দেয়ার আগে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা জানতে চাচ্ছে। রফতানিকারকরা নিশ্চিত করতে পারছেন না উত্পাদন আদৌও ঠিক রাখা যাবে কিনা। বর্তমানে শুধু জ্বালানি সমস্যার কারণে প্রায় ৪০ ভাগ উত্পাদন কমে গেছে। সামনে পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই। আর এটা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অজানা নেই। কারণ, বড় বড় ক্রেতাদের স্থানীয় এজেন্টরা হরহামেশা বিভিন্ন ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখছেন। পর্যবেক্ষণ করছেন উত্পাদন পরিস্থিতি।’
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোঃ ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন অর্ডার দেয়ার আগে এ নিশ্চয়তা চায় সময়মত পণ্য ডেলিভারি হবে। কিন্তু আমাদের জ্বালানির যে দুরবস্থা চলছে তাতে ক্রেতাদের নিশ্চয়তা দিয়েও বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না। জ্বালানি পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ায় বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বিকল্প বাজার অনুসন্ধান শুরু করেছে।’ বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, জেনারেটর দিয়ে গার্মেন্ট কারখানা কোনোরকম উত্পাদন ঠিক থাকে। কিন্তু গার্মেন্ট কারখানাগুলোর অন্যতম কাঁচামাল ফেব্রিক্স উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জেনারেটর দিয়ে চালু রাখা কোনোভাবেই সম্ভব না। আর এ বিষয়গুলো বিদেশি ক্রেতারা খুব ভালোভাবেই জানেন। জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে এক সময় আর ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, তৈরি পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে ভাবছে ওয়ালমার্ট। এখান থেকে তারা আরও বেশি পোশাক কিনতে চায়। সেজন্য এখানে গ্যাস বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পোশাক ও বস্ত্রখাতের জন্য একটি সমন্বিত শিল্পাঞ্চল করার পরামর্শ তারা দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ওয়ালমার্টসহ ১১টি ক্রেতার সংগঠন বায়ার্স ফোরাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের নূ্যূনতম বেতন বাড়ানো ও জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নের অনুরোধ জানিয়েছে।
বিজিএমইএ’র একটি সূত্র জানিয়েছে, তৈরি পোশাকের আরেক বড় ক্রেতা আমেরিকার ‘কোচ’ ও ‘এইচ অ্যান্ড এম’ কয়েক মাস ধরে পোশাক কেনার অর্ডার অস্বাভাবিক কমিয়ে দিয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান একদিকে দাম কমানোর চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প বাজারের জন্য ছুটে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা, ভারত ও ভিয়েতনামে।
ইউরোপে তৈরি পোশাকের বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ও লুসাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে গতকাল আমার দেশকে বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় গত ৯ মাসে দফায় দফায় রফতানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। মন্দা কেটে যখন আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তখনই স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সঙ্কট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সঙ্কটে বিদেশি ক্রেতারা এখন অর্ডার দিতে আস্থা পাচ্ছেন না। বিদ্যুত্ ও গ্যাসের বিকল্প হিসেবে জেনারেটর দিয়ে উত্পাদন ঠিক রাখতে অন্তত ৪০ ভাগ বাড়তি খরচের কথা জানান তিনি।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোয় বছরে প্রায় ২১ কোটি লিটার ডিজেল পুড়ছে। বিদ্যুত্ না পাওয়ায় কারখানার জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে ডিজেলের ব্যবহার। এতে মাসেই আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ১৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রায়। সাম্প্রতি পোশাক কারখানাগুলোয় বিদ্যুত্ সরবরাহ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বর্তমানে পোশাক শিল্পে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা আছে ৬২০ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৫ ভাগ কম বিদ্যুত্ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। দিনে অন্তত ৬/৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুতের রেশনিং পদ্ধতিও বড় কোনো ফল বয়ে আনছে না।
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সঙ্কটে গত এক বছরে প্রায় দেড় শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (২০০৯-১০) প্রথম মাসেই (জুলাই) রফতানি হ্রাস পেয়েছে দশমিক ৮০ শতাংশ)। আগস্টে রফতানি শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ বাড়লেও সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় কমে যায় ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। জুলাই-অক্টোবরে রফতানি আয়ে কমেছে ৬ দশমিক ৭৪ ভাগ। জুলাই-নভেম্বরে রফতানি কমেছিল ছিল ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং জুলাই-ডিসেম্বরে তা দাঁড়ায় ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে পোশাক রফতানিতে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একই অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন এই ৬ মাসে গড় প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। আর এপ্রিল-জুন সময়কালে প্রবৃদ্ধি আরও কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থবছরের শেষ মাসে প্রবৃদ্ধি কমে (-০.১১ শতাংশ) যায়। গত ডিসেম্বরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট হয়ে মাইনাস ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ হয়েছে।

Related Posts


We will keep You Updated...
Sign up to receive breaking news
as well as receive other site updates!
Sponsors


Featured Video
Sponsors
Popular Posts

Climate Change a Hot Story Here

Climate Change a Hot Story Here Glenn Baker October 7, 2009 Sponsored by the Pulitzer Center on Crisis Reporting Climate change is front page news in Bangladesh on a...

Immeasurable' losses feared as embankment rebuilding falls behind

'Immeasurable' losses feared as embankment rebuilding falls behind 24 Feb 2010 15:23:00 GMT Written by: AlertNet correspondent Makeshift huts sit on a heavily eroded...

BPC team to visit Malaysia, Singapore for fuel deals

BPC team to visit Malaysia, Singapore for fuel deals Staff Correspondent . Chittagong A 4-member Bangladesh Petroleum Corporation team is scheduled to leave for Malaysia...

PM urges businessmen to use solar power in offices

FE Report Prime Minister Sheikh Hasina Thursday urged the business community to use solar power in their offices to reduce pressure on the national grid. She said...

All set for Dhaka-Moscow nuclear agreement

All set for Dhaka-Moscow nuclear agreement BSS, Dhaka The government will sign an agreement with Russia on May 21 next for bolstering cooperation for peaceful use of atomic...
Flickr RSS
share this site
Share |
Categories
visitor from 1-3-10
Recent Posts

Is energy security achievable in Bangladesh?

Is energy security achievable in Bangladesh? Only coal cannot meet our energy needs. Photo: washingtonpostAhmed...

ADB raises assistance to improve clean energy access

ADB raises assistance to improve clean energy access Bss, Dhaka The Asian Development Bank (ADB)...

Bangladesh govt signs deal with US oil giant ConocophilLips this month

Govt signs deal with US oil giant this month // < ![CDATA[// // < ![CDATA[// FE Report The...

CNG pump owners for lifting of six-hour closure order

CNG pump owners for lifting of six-hour closure order The call aims at easing...

Cairn to be allowed to sell its gas to third party in BD

Cairn to be allowed to sell its gas to third party in BD Petrobangla set to sign...
Recent Comments
... This post was Twitted by sanjoychakibd ...
... This post was mentioned on Twitter by Sanjoy Chaki, bd Energy Link. bd Energy Link said: Low-cost biogas digester may soon brigh
... This post was mentioned on Twitter by Sajid Chowdhury, Sajid Chowdhury and Sanjoy Chaki, bd Energy Link. bd Energy Link said: Na
... Tk 561cr subsidy w&#1110&#406&#406 b&#1077 needed a year f&#959r high-cost electricity ...
... This post was mentioned on Twitter by Sanjoy Chaki, bd Energy Link. bd Energy Link said: নতুন গ্যাস পাও
Tag Cloud