সমুদ্রবক্ষের সাঙ্গু ক্ষেত্র এবং মাগনামা এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে স্কটিশ কোম্পানি কেয়ার্নের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের দুনীর্তি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি একটি দল অনুসন্ধান করে প্রমাণ পেয়েছে, সাঙ্গুর ১০ নম্বর কূপ খননের ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার । কিন্তু মাত্র ৭০ লাখ ডলার সমমূল্যের গ্যাস তুলে কূপটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কূপ খননের সময় জরাজীর্ণ, পুরনো এক রিগ এনে অযথা লাখ লাখ ডলারের বিল সরকারের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয়ে মাগনামায় অনুসন্ধান কূপ খননেও প্রচুর অনিয়ম হয়েছে। বিবি-৫ নামে একটি রিগকে দিনের পর দিন লাখ লাখ ডলার ভাড়া দিয়েছে এ আইওসি (আর্ন্তজাতিক তেল কোম্পানি)। অথচ নির্দিষ্ট জোনে খনন না করেই রিগটি ফেরত পাঠানো হয়। সেই গ্যাস অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পর এবার আবার কেয়ার্ন একই স্থানে ত্রিমাত্রিক সার্ভে করছে। এসব বিষয় পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আরও অনুসন্ধান করে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশী তেল কোম্পানিগুলো এভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ এবং সম্পদের হরিলুট করছে। অথচ দেখার মতো যেন কেউ নেই। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, আইওসিগুলোর পক্ষে রাষ্ট্রের অনেক বড় বড় হর্তাকর্তা অবস্থান নেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে সহজে কিছু করা যায় না। বঙ্গোপসাগরে সাঙ্গু ক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়াতে ২০০৭ সালে ১০ নম্বর কূপ খনন করা হয়। এ কূপ খনন করতে কেয়ার্ন পেট্রোবাংলার কাছ থেকে ৫ কোটি ডলার বাজেট অনুমোদন করে নেয়। কূপটি খনন করতে সে সময়ে সি ড্রিল নামে একটি পুরনো রিগ আনা হয়। যেটি ১০০ দিনের মধ্যে ৪০ দিনই কাজ করতে পারেনি। কিন্তু ভাড়া দেয়া হয়েছে প্রতিদিন। রিগের প্রতি দিনের ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি। এ কূপ খননেও আরও প্রচুর অনিয়ম অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১০ নম্বর কূপ খননে তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় হলেও ৭০ লাখ ডলার মূল্যের গ্যাস তোলার পর বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কেয়ার্ন পেট্রোবাংলাকে জানায়, এ কূপের জোনে ৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুদ ছিল। যার মধ্যে ২০০৮ সালের জুনে (বন্ধ করে দেয়ার সময় পর্যন্ত) গ্যাস তোলা হয়েছে ১ দশমিক ৫১ বিসিএফ। বিশেষজ্ঞরা জানান, সাঙ্গুর ১০ নম্বর কূপ উৎপাদন কূপ। তেল কোম্পানিগুলো উৎপাদন কূপে আর্থিক লাভ কষেই কূপ খনন করে থাকে এবং কোন উৎপাদন কূপে লাভ ছাড়া লোকসানের নজির তেমন নেই। আইওসিগুলো বলছে, যে কোন কূপ খননে গ্যাস প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। কেয়ার্ন ১০ নম্বর কূপ খননের এ কোটি কোটি ডলার পেট্রোবাংলার কাছ থেকে বিনিয়োগ উসুল (কস্ট রিকভারি) হিসেবে আদায় করে নিয়েছে।
সাঙ্গুর উৎপাদন ক্রমেই কমে আসছে। গত বছরের শুরুর দিকে কেয়ার্ন হঠাৎ করে সরকারকে জানায়, যেকোন সময় সাঙ্গুর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এর উৎপাদন চালু রাখতে প্রায় ৯০ লাখ ডলার (৬৩ কোটি টাকা) ব্যয়ে একটি কম্প্রেসার এবং কয়েকটি কূপের সংস্কার কাজ করতে হবে। এ কাজ এবং কম্প্রেসার বসালে সাঙ্গু চলবে ২০১১ সাল পর্যন্ত। সাঙ্গুর ওপর চট্টগ্রাম নির্ভরশীল। চট্টগ্রামে শিল্প-কারখানা বাঁচিয়ে রাখতে সরকার কেয়ার্নের এ প্রস্তাব মেনে নেয়। গত মাসে কেয়ার্ন আবার পেট্রোবাংলার কাছে গিয়ে জানিয়েছে, নতুন করে আবার ৮৬ হাজার ডলারের কাজ করতে হবে। নতুবা ক্ষেত্রটি শিগগির বন্ধ হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব করে কেয়ার্ন কত অনিয়ম করছে তা দেখার যেন কেউ নেই। সব অর্থই পরবর্তী সময়ে সরকারের অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছে তেল কোম্পানিটি।
উল্লেখ্য, সাঙ্গুর গ্যাস মজুদ এক ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি দেখিয়ে কেয়ার্ন এবং তার অংশীদাররা দৈনিক ২০ থেকে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করেছে। এর ফলে সম্ভাবনাময় এ ক্ষেত্রের স্তর ধ্বংস হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা মনে করছেন। ক্ষেত্রটি থেকে এখন দৈনিক ৩ থেকে সাড়ে তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে।
আরেক বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে মাগনামায় কূপ খননের সময়। ২০০৭ সালে মাগনামায় অনুসন্ধানী কূপ খনন করতে বিবি-৫ নামে একটি রিগ ভাড়া আনে কেয়ার্ন এনার্জি। ১৫ হাজার পিএসআইতে রিগটি হাইপ্রেসার জোনে খনন করতে পারে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এ জন্য এটির দৈনিক ভাড়া দুই লাখ ১০ হাজার ডলার। কেয়ার্নের টার্গেট অনুযায়ী মাগনামায় ৪ হাজার ৫৪১ মিটার পর্যন্ত খনন করার কথা। কিন্তু ৪ হাজার ৬০ মিটারের পর রিগটি আর খনন করেনি। ফলে পুরো পরিকল্পনা এবং ক্ষেত্র আবিষ্কারের অমিত সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। কেন বিবি-৫ যথাযথভাবে খনন করেনি, তা এখনও সবার কাছে রহস্যময়। কেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার জলে ঢালা হল তার সন্ধান চলছে। সেই মাগনামায় এখন আবার কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ত্রিমাত্রিক সার্ভে করছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আগে ত্রিমাত্রিক সার্ভে করে সেই জোনে কূপ খনন করা হয়নি কেন? তাহলে কোটি কোটি ডলার জলে যেত না। মাগনামা অনুসন্ধানের কোন ব্যয় আপাতত কেয়ার্ন সরকারে কাছ থেকে আদায় করছে না। তবে বাণিজ্যিকভাবে সেখানে গ্যাস পেলে এ বিনিয়োগ তারা সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নেবে।
আশ্চর্য হলেও সত্য, বর্তমান সরকার গত বছরের এপ্রিলে কেয়ার্নকে এ মাগনামা ক্ষেত্র থেকে অন্য পক্ষকে গ্যাস বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, যা পিএসসির (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) স্পষ্ট লংঘন বলে সবাই মনে করেন।
Climate Change a Hot Story Here
Glenn Baker
October 7, 2009
Sponsored by the Pulitzer Center on Crisis Reporting
Climate change is front page news in Bangladesh on a...
'Immeasurable' losses feared as embankment rebuilding falls behind
24 Feb 2010 15:23:00 GMT
Written by: AlertNet correspondent
Makeshift huts sit on a heavily eroded...
BPC team to visit Malaysia,
Singapore for fuel deals
Staff Correspondent . Chittagong
A 4-member Bangladesh Petroleum Corporation team is scheduled to leave for Malaysia...
FE Report
Prime Minister Sheikh Hasina Thursday urged the business community to use solar power in their offices to reduce pressure on the national grid.
She said...
All set for Dhaka-Moscow nuclear agreement
BSS, Dhaka
The government will sign an agreement with Russia on May 21 next for bolstering cooperation for peaceful use of atomic...