যুগান্তর রিপোর্ট
গ্রীষ্মের তাপদাহ এখনও শুরু হয়নি। এর মধ্যেই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং মারাÍক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের টার্গেট অনুযায়ী এ বছর লোডশেডিং কাটছে না। বরং লোডশেডিং পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনের আলো সাশ্রয়সহ (ডে লাইট সেভিং) কয়েকটি কর্মসূচির ওপর নির্ভর করছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। আপাতত এছাড়া কোন উপায়ও নেই বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ শুক্রবার জানান, গ্যাস পাওয়া গেলে লোডশেডিং অনেকটা কমে আসবে। এখন মূলত গ্যাসের কারণেই লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। দিনরাতের লোডশেডিংয়ে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। হাতিরপুল পুকুরপাড় থেকে গৃহবধূ রিপা জানান, বিদ্যুতের এ অবস্থা কেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে। এমনকি রাতেও কয়েকবার বিদ্যুৎ গেছে। ১০৯/১ আরামবাগ থেকে রিনা পারভিন জানান, সকাল ৭টায় লোডশেডিং শুরু হয়ে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। তার প্রশ্ন, এখনই এ অবস্থা হলে সামনে কি হবে। বিদ্যুতের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বোরো চাষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এক লাখের বেশি সেচপাম্প দিনরাত চলছে। এ চাষের জন্য অতিরিক্ত দৈনিক ১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। দিনের বেলায় শহরে লোডশেডিং করে গ্রামে সরবরাহ দেয়া হয়। সেজন্য দিনে শহরে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। আগামী মে মাস পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং অন্যরা জানান, এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর এ চাহিদা ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ৪ হাজার থেকে ৪২শ’ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং থাকবে ২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বর্তমানে এ চাহিদা হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো। বৃহস্পতিবার পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪১৫৭ মেগাওয়াট। আগামী তিন মাসে নতুন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ ডিজেলচালিত দুটি ভাড়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র জুনের আগে আসছে না। অর্থাৎ এ দুটি এ বছরের গ্রীষ্ম মৌসুম ধরতে পারছে না। এছাড়া ৯০ মেগাওয়াটের ফেঞ্চুগঞ্জ কেন্দ্র গত প্রায় দেড় বছর ধরে বসে আছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে ২০০৮ সালে বসানো হলেও ঠিকাদার হারবিনের সঙ্গে পিডিবি এবং সরকারের ঝামেলার কারণে এটি চালু করা যাচ্ছে না। ঠিকাদারের দাবি অনুযায়ী ইতিমধ্যে কেন্দ্রের ৩৬ কোটি টাকার শুল্ক সরকার মওকুফ করে দিয়েছে। এরপরও নানা শর্তে এটা চালু হচ্ছে না। তাই এটি আদৌ চালু হবে কিনা তা কেউ বলতে পারছেন না।
গ্যাসই সব সমস্যা : দেশে ৪৪টি ছোট-বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। যার ৮০ শতাংশের বেশি চলে গ্যাস দিয়ে। গ্যাসের কারণে রাউজানের একটি ইউনিট (২১০ মেগাওয়াটের) ও ৬০ মেগাওয়াটের শিকলবাহা কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বাঘাবাড়ী, আশুগঞ্জ, আরপিসিএলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে উপযুক্ত চাপে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে পিডিবি এবং আইপিপিগুলো। গত সপ্তাহে পিডিবির চেয়ারম্যান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়।
পিডিবির চাহিদা হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য দৈনিক কমপক্ষে ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ রাখতে হবে। কিন্তু দেয়া হয় ৭০ কোটি ঘনফুটের কম। খবর নিয়ে জানা গেছে, সরকারের ওপর মহলের নির্দেশের পর গত সপ্তাহ থেকে বিদুৎ কেন্দ্রে দৈনিক গড়ে ৭৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে ছোট ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (গ্রিডের বাইরে) সরবরাহ হিসাব করলে এ হিসাব দাঁড়ায় দৈনিক ৮১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। যার কারণে পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন দৈনিক ৩ থেকে ৪শ’ মেগাওয়াট বেড়েছে। কিন্তু এরপরও লোডশেডিং কমছে না।
লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ এখনও স্বপ্ন : মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতার পাঁচ বছরে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। গত জুন মাসে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার দফতরে এক পরিকল্পনা পেশ করে। এতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে লোডশেডিং করতে ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ভাড়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। কিন্তু এ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার এ পর্যন্ত ৩১৫ মেগাওয়াটের চারটি ভাড়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর চুক্তি করেছে। এছাড়া আরও প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিভিন্ন আইপিপি ও পিকিং প্লান্টের জন্য টেন্ডার করেছে। এতকিছুর পরও লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ অবশ্য বললেন, সরকার কখনোই ২০১০ সালের মধ্যে লোডশেডিংমুক্ত করবে বলেনি। সরকার বলেছে, ২০১০ সালের পরই এটি করা হবে। তিনি আশা করেন, যেভাবে এগুনো হচ্ছে এতে করে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা আমলেই (২০১৪ সালের মধ্যে) লোডশেডিংমুক্ত হবে দেশ।
Climate Change a Hot Story Here
Glenn Baker
October 7, 2009
Sponsored by the Pulitzer Center on Crisis Reporting
Climate change is front page news in Bangladesh on a...
'Immeasurable' losses feared as embankment rebuilding falls behind
24 Feb 2010 15:23:00 GMT
Written by: AlertNet correspondent
Makeshift huts sit on a heavily eroded...
BPC team to visit Malaysia,
Singapore for fuel deals
Staff Correspondent . Chittagong
A 4-member Bangladesh Petroleum Corporation team is scheduled to leave for Malaysia...
FE Report
Prime Minister Sheikh Hasina Thursday urged the business community to use solar power in their offices to reduce pressure on the national grid.
She said...
All set for Dhaka-Moscow nuclear agreement
BSS, Dhaka
The government will sign an agreement with Russia on May 21 next for bolstering cooperation for peaceful use of atomic...