
বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়, সময় দিতে হবে : শেখ হাসিনা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান বিদ্যুত্ সঙ্কটের জন্য আবারও বিগত চারদলীয় জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, সাত বছরের জঞ্জাল রাতারাতি পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ সমস্যার উত্তরণ ঘটাতে পারব, তবে এজন্য সময় দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুত্ সঙ্কটে মানুষের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুত্ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি আয়োজিত বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো-২০১০ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
বিদ্যুত্ সঙ্কট প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় বিদ্যুত্ উত্পাদন যতটুকু রেখে এসেছিলাম, এবার এসে দেখলাম সেখানে নেই। অথচ এই সাত বছরে চাহিদা বেড়েছে অনেক। প্রতি বছরে ১০ ভাগ চাহিদা বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন কি সাত বছরের ঘাটতি মেটাবো নাকি প্রতি বছর যে ১০ ভাগ করে চাহিদা বাড়ছে তা পূরণ করবো?
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক বছরের ভেতরে প্রায় ৭শ’ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুত্ দিতে সক্ষম হয়েছি। তাতে খুব একটা যে লাভ হচ্ছে তা না; কারণ, চাহিদা অনেক বেশি। আমরা এখন সোলার এনার্জি ব্যবহার, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতসহ বিভিন্নভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি।
বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধির পথে গ্যাস সঙ্কটকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুতের জন্য প্রয়োজন গ্যাস। অথচ আমরা যে কয়টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে রেখে গিয়েছিলাম তা সেখানেই থেমে আছে।
বিদ্যুত্ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফিসগুলোর উচিত সোলার প্যানেল ব্যবহার করা। এ সময় তিনি নিজের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল বসানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কখনও গণতান্ত্রিক, কখনও অগণতান্ত্রিক, কখনও বা মার্শাল ল’ দিয়ে নানা ধরনের শাসক দেশ শাসন করেছে। এর ফলে যারা ক্ষমতায় ছিল ২৯ বছর, তারা এ দেশের মানুষকে শোষণ করেছে, দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, নিজেদের ভাগ্য গড়েছে, মুষ্টিমেয় মানুষ সম্পদশালী হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্দেশ হচ্ছে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া। এসময় তিনি মহাখালীতে একটি আইটি ভিলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। তিনি হ্যাকারদের ঠেকাতে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের ওপরও জোর দেন।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, এক্সিয়াটা বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল কোয়েনার, এএসওসিআইও’র প্রেসিডেন্ট লুই কিয়েন লিয়ং, সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শেখ হাসিনার হাতে একটি আইপড তুলে দিয়ে তাকে স্বাগত জানান মোস্তফা জব্বার। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।