দুই বছরে প্রায় ৬০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) জরিপ শেষে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা এলাকায় গ্যাসের বড় স্তরের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে বাপেক্স । দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) বেশি গ্যাস পাওয়ার আশা করছে পেট্রোবাংলা।পরিকল্পনা অনুযায়ী চারটি উন্নয়ন কূপ খনন করে সেখান থেকে প্রথম পর্যায়েই দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হবে, যা চলমান গ্যাস সঙ্কট মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগামী বছরের মধ্যে ধর্মপাশায় অনুসìধান কূপ খনন করা হবে। এতে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গ্যাস উত্তোলন লাভজনক মনে হলে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগোবে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স। প্রসেস প্লান্ট স্খাপন, সঞ্চালন লাইনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০১৩ সালের মধ্যে ওই এলাকার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেয়া সম্ভব হবে বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আশা করছেন।
বর্তমানে দেশে তীব্র গ্যাস সঙ্কট চলছে। এ অবস্খায় সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনার এই বড় গ্যাস স্তরকে বড় ধরনের সুসংবাদ হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। এ জন্য পেট্রোবাংলা চাইছে দ্রুত এই গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে সঙ্কট মোকাবেলা করা। এ ব্যাপারে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর এর আগে বাপেক্সকে জোর তাগাদা দিয়েছেন। তিনি নিজে ওই এলাকা ঘুরে দেখেছেন। গত শনিবার গাজীপুরের কাপাসিয়া ঘুরে তিনি নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের ওই প্রত্যন্ত বিল এলাকা ঘুরে দেখেন। দ্রুত অনুসìধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তিনি বাপেক্সের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনার বড় গ্যাস স্তর সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসìধানের জন্য জোরেশোরে কাজ শুরু করে বাপেক্স। দ্বিমাত্রিক জরিপের মাধ্যমেই ওই গ্যাস স্তরের সìধান মেলে। এই স্তরটি সুরমা বেসিনে অবস্খিত। এ জন্য এই এলাকাটি খুবই সম্ভাবনাময়। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্খিত দেশের বৃহত্তম বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।’
টু-ডি শেষে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে ওই এলাকায় তিন টিসিএফ’র মতো গ্যাস মজুদ থাকতে পারে, যার মধ্যে কমপক্ষে দুই টিসিএফ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। তবে অনুসìধান কূপ খননের পর প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণের পরই এ সম্পর্কে আরো নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যাবে। তখনই আনুষ্ঠিকভাবে গ্যাস আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হবে।
অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর আরো বলেন, ‘আমরা এই বিল এলাকাকে শহরে পরিণত করব। রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করব।’ বর্তমান সরকারের সময়েই এসব কাজ শেষে এখানকার গ্যাস গ্রিডে দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শনিবার নেত্রকোনার মহনগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশাসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে গ্যাসের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোর বেশির ভাগই বিল বা জলাশয় মাধ্যমে বেষ্টিত। অনেক এলাকার সাথে কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। নৌকাই একমাত্র বাহন। এ কারণে ওই এলাকায় অনুসìধান কূপ খনন ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বাপেক্সের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা।
ধর্মপাশার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামে কথা হয় বাপেক্সের জরিপ দলের ডেপুটি পার্টি চিফ মেহেরুল হাসানের। তিনি বলেন, ‘কঠিন হলেও আমরা এ ধরনের কাজে অভ্যস্ত। এখন থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সব এগোচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে বিলে পানি শুকিয়ে গেলে রিগ আনা হবে।’
বাপেক্স সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার অংশজুড়ে বড় গ্যাস স্তরটি বিস্তৃত তা ১১ নম্বর ব্লকে অবস্খিত। এ এলাকায় গ্যাস অনুসìধান ও উন্নয়নের দায়িত্বে বাপেক্স। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পুরনো ক্ষেত্রগুলোতে ওয়ার্কওভারের (সংস্কার) পাশাপাশি নতুন গ্যাস অনুসìধানের উদ্যোগ নেয়া হয়। নতুন গ্যাস অনুসìধানের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা এলাকায় গত বছর ৩০০ লাইন কিলোমিটারের বেশি এবং এ বছর ইতোমধ্যে ২৫৯ লাইন কিলোমিটার টু-ডি সার্ভে করা হয়েছে। এসব সার্ভের ফলাফল মেলানো (ইন্টারপিটিশন) বা উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতেই বড় গ্যাস স্তর সম্পর্কে জানতে পেরেছে বাপেক্স। এ ছাড়া বিবিয়ানার প্রাপ্ত উপাত্তের সাথেও সেখানকার ফলাফল মেলানো হয়েছে।
বাপেক্সের ব্যবস্খাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক বলেন, ‘সম্প্রতি চীন থেকে যে রিগ এসেছে তা ফেঞ্চুগঞ্জ ৪ নম্বর কূপ খননে রয়েছে। সেখানকার কাজ শেষ হলেই ওই রিগ সুনামগঞ্জের ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। অনুসìধান কূপ খননের পর ওই রিগ অন্যত্র না নিয়ে ওইখানেই উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। অবশ্য এর আগে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন লাভজনক হবে কি না সে সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হতে হবে। তবে আশা করছি, ওই এলাকা থেকে প্রথম পর্যায়েই চারটি কূপের সাহায্যে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’
Climate Change a Hot Story Here
Glenn Baker
October 7, 2009
Sponsored by the Pulitzer Center on Crisis Reporting
Climate change is front page news in Bangladesh on a...
'Immeasurable' losses feared as embankment rebuilding falls behind
24 Feb 2010 15:23:00 GMT
Written by: AlertNet correspondent
Makeshift huts sit on a heavily eroded...
BPC team to visit Malaysia,
Singapore for fuel deals
Staff Correspondent . Chittagong
A 4-member Bangladesh Petroleum Corporation team is scheduled to leave for Malaysia...
FE Report
Prime Minister Sheikh Hasina Thursday urged the business community to use solar power in their offices to reduce pressure on the national grid.
She said...
All set for Dhaka-Moscow nuclear agreement
BSS, Dhaka
The government will sign an agreement with Russia on May 21 next for bolstering cooperation for peaceful use of atomic...