বিদ্যুতের অভাবে নেটওয়ার্ক বাড়াতে পারছে না টেলিটক
বিদ্যুতের অভাবে নেটওয়ার্ক বাড়াতে পারছে না টেলিটক
অনিকা ফারজানা | তারিখ: ২৫-০৭-২০১০
![]()
নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যবহূত টেলিটকের আমদানি করা যন্ত্রপাতি পড়ে রয়েছে বিভিন্ন গুদামে। এসব যন্ত্রপাতির সাহায্যে দেশজুড়ে ১১৬টি বেইজ ট্রান্সমিশন বা রিসিভার স্টেশন (বিটিএস) স্থাপনের কথা রয়েছে।
কিন্তু নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় এসব বিটিএস বসানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার দীর্ঘদিন অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকলে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা টেলিটক কর্তৃপক্ষের।
সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে বিটিএস বসাতে পারছি না। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ অনুরোধ করে চিঠি পাঠিয়েছি।’
সারা দেশে আগামী তিন মাস নতুন কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না বলে গত মার্চ মাসে সরকারের নেওয়া এক সিদ্ধান্তের ফলে এ অবস্থা হয়েছে বলে টেলিটক সূত্র জানায়। গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তিন মাস চলে গেলেও নতুন সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে বিনিয়োগ করেও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে পারছে না টেলিটক।
টেলিটকের মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার) শাহ আলম বলেন, এ পর্যন্ত দুই দফা ৫ ও ১৫ জুলাই বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৫ জুলাই টেলিটককে বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে প্রথম চিঠি পাঠানো হয়। এরপর ১৫ জুলাই দেশের যেসব জায়গায় বিটিএস বসানো হবে, সেগুলোর তালিকাসহ বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শাহ আলম আরও জানান, বিদ্যুৎসচিবকে পাঠানো চিঠিতে ২৯ মার্চে জারি করা প্রজ্ঞাপনের আওতার বাইরে টেলিটককে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করে বিটিএস স্থাপনের জায়গায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে।
টেলিটক সূত্র জানায়, দেড় মাসের বেশি সময় ধরে গুদামে এসব যন্ত্রপাতি পড়ে রয়েছে। গত জুন মাসে আসা এসব যন্ত্রপাতি গুদামে রাখা যাবে সর্বোচ্চ আগস্ট মাস পর্যন্ত। হাতে বেশি সময় নেই, কিন্তু নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী ঢাকায় ২৮টি, খাগড়াছড়িতে ১৪, চট্টগ্রামে সাত; লালমনিরহাট, যশোর ও রাঙামাটিতে পাঁচটি করে; বান্দরবন, কুড়িগ্রাম, সিলেট, ভোলা, কুমিল্লা ও গাজীপুরে তিনটি করে; নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ঝালকাঠি, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনায় দুটি করে এবং বরিশাল, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ঝিনাইদহ, জয়পুরহাট, মাদারীপুর, মাগুরা, নওগাঁ, নড়াইল, নাটোর, রাজশাহী, রংপুর ও সাতক্ষীরায় একটি করে বিটিএস বসানোর পরিকল্পনা করেছে টেলিটক।